অলিউল্লাহ অলি ,বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও গণসংযোগে সরব উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে প্রার্থী বাছাই ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে দুই দলের মধ্যে ভিন্ন কৌশল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে উপজেলার আটটি ইউনিয়নেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করে সাংগঠনিকভাবে মাঠে নেমেছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই একাধিক নেতা সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। ফলে দলটির প্রার্থী বাছাই ও মনোনয়ন-পরবর্তী ঐক্য ধরে রাখা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার বিশারকান্দি, ইলুহার, উদয়কাঠী, বাইশারী, সৈয়দকাঠী, চাখার, সলিয়াবাকপুর ও বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, মতবিনিময় ও প্রচার-প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অনুসারীদের নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
একই ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় কোথাও কোথাও প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে ব্যানার-ফেস্টুন টানানোসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর এসব প্রার্থী ও তাদের অনুসারীদের কীভাবে একই প্ল্যাটফর্মে রাখা যায়, সেটিই এখন বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বিষয় হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মতে, মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সমঝোতা না হলে একই দলের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এতে দলীয় ভোটের ওপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি দলীয় সিদ্ধান্ত ও মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে।
অন্যদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার বিপরীতে জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলকভাবে একক প্রার্থীকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাচ্ছে। আটটি ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করার পর দলটির নেতাকর্মীরা নিয়মিত গণসংযোগ ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক অবস্থান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
ইতোমধ্যে বিএনপির কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন দলের জন্য কাজ করা, মামলা-হামলার শিকার হওয়া ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রার্থী বাছাই করা প্রয়োজন। শুধু আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তারা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ মৃধা বলেন, “বাংলাদেশে সর্বত্র নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান করেছেন। সে হিসেবে বানারীপাড়া উপজেলা বাংলাদেশের বাইরে নয়। কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি জনমত জরিপ করে ত্যাগী, হামলা-মামলার শিকার ও জনপ্রিয় নেতা বা কর্মীকেই মনোনয়ন দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “দলকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্ধারিত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করতে হবে। কোনো ইউনিয়নে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু এবং বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সব মিলিয়ে বানারীপাড়ার আট ইউনিয়নে নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সক্রিয় থাকলেও জামায়াত একক প্রার্থীকে সামনে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন, প্রার্থী নির্বাচন এবং মনোনয়ন-পরবর্তী সাংগঠনিক ঐক্য কীভাবে বজায় থাকে—নির্বাচনী মাঠে সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
Bangabani24