ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বানারীপাড়ায় র‍্যাবের অভিযানে ভুয়া চিকিৎসক ও অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 25, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
অলিউল্লাহ অলি, বানারীপাড়া প্রতিনিধি :

বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসা রোড এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় পরিচালিত ‘ম্যাগনেসা বাংলাদেশ’ নামের একটি ইউনানি চিকিৎসা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে একজন ভুয়া চিকিৎসক ও একজন অনুমোদনহীন ঔষধ বিক্রেতাকে অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অর্থদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বরিশাল সদর উপজেলার শাফানিয়া গ্রামের বাসিন্দা কথিত চিকিৎসক এম এ হাসান সিদ্দিকী এবং বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান। মিজানুর রহমান বানারীপাড়া টেম্পু স্টেশন এলাকায় থাই অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত বলে জানা গেছে।

র‍্যাব-৮ এর গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা ২৪ আগস্ট (সোমবার) সকাল ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোগী সেজে ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে যান। এ সময় সেখানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে র‍্যাব সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, একজন ভুক্তভোগী রোগী প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ করার পর বিষয়টি র‍্যাবকে অবহিত করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা ছাড়াই রোগীদের পরামর্শপত্র প্রদান, ঔষধ বিক্রেতার ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা, উচ্চমূল্যে ঔষধ বিক্রি এবং চিকিৎসা গ্রহণের পরও রোগীদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ার অভিযোগ উঠে আসে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই অনুমোদনহীন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রতিবার রোগীপ্রতি ৭০০ টাকা পরামর্শ ফি নেওয়া হতো। পাশাপাশি রোগীদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের ঔষধ সেবনের পরামর্শ দেওয়া হতো। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উচ্চমূল্যে এসব ঔষধ সেবন করেও রোগের উন্নতি হয়নি; বরং কারও কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে।

র‍্যাব সূত্র আরও জানায়, অভিযুক্ত কথিত চিকিৎসক এম এ হাসান সিদ্দিকী তার চিকিৎসা পদ্ধতির ভুল স্বীকার করে দায় স্বীকার করেন। পরে বানারীপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত নওশিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল আইন, ২০১০ অনুযায়ী তাকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এছাড়া প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও লাইসেন্স ছাড়া ঔষধ বিক্রির অভিযোগে মো. মিজানুর রহমানকে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন-এর ৮০ ধারা অনুযায়ী ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের অনুমোদনহীন চিকিৎসা প্রদান ও ঔষধ বিক্রির সঙ্গে জড়িত না থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

অভিযান চলাকালে একাধিক ভুক্তভোগী রোগী সেখানে উপস্থিত হয়ে ঔষধ বিক্রেতার কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে রোগীদের বিভিন্নভাবে চিকিৎসা ও ঔষধের নামে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangabani24

কমেন্ট বক্স