ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নেছারাবাদে ‘ডেভিলস ব্রেথ’ আতঙ্ক, আবেগের ফাঁদে নার্স সর্বস্বান্ত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 17, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
নেছারাবাদে ‘ডেভিলস ব্রেথ’ আতঙ্ক, আবেগের ফাঁদে নার্স সর্বস্বান্ত

অলিউল্লাহ, নিজস্ব প্রতিনিধি।।

নেছারাবাদে ‘শয়তানের নিশ্বাস’ নামে পরিচিত ভয়ংকর রাসায়নিক পদার্থ স্কোপোলামিন (ডেভিলস ব্রেথ) ব্যবহার করে এক নার্সকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। অভিনব কৌশলে মানবিক আবেগকে কাজে লাগিয়ে সংঘটিত এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

রোববার (সকাল ১১টার দিকে) উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী নার্স নিলিমা রানি বেপারি। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারকরা তার কাছ থেকে গলার চেইন, কানের ঝুমকা, হাতের রুলি, আংটি এবং দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, লুট হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।

ভুক্তভোগী নিলিমা রানি বেপারি জানান, ব্যক্তিগত একটি কম্পিউটার সংক্রান্ত কাজের জন্য তিনি বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক ব্যক্তি তাকে ‘মায়ের মতো’ সম্বোধন করে সাহায্য চান। কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন এসে নিজেদের ভিন্ন পরিচয় দিয়ে কথোপকথনে যুক্ত হয়। একপর্যায়ে তারা তাকে বাজারের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ঘোরাঘুরি করায় এবং একটি ব্যাগে থাকা কিছু মালামাল বিক্রির বিষয় নিয়ে কথা বলতে থাকে।

এরপর ঠিক কীভাবে তিনি নিজের শরীরের স্বর্ণালঙ্কার খুলে অপরিচিতদের হাতে তুলে দিয়েছেন, সেই মুহূর্তের অনেক কিছুই তার স্পষ্টভাবে মনে নেই বলে জানান তিনি।
নিলিমার স্বামী, প্রধান শিক্ষক সংকর বড়াল বলেন, অপরিচিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যাওয়ার পর থেকেই তার স্ত্রীর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তাদের ধারণা, কোনো ধরনের কেমিক্যাল বা মাদক প্রয়োগের মাধ্যমে তাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের দাবি, নেছারাবাদে এর আগেও একই ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। সচেতন মহল দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর নজরদারি ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, স্কোপোলামিন অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা তরল বা পাউডার আকারে কাগজ, কাপড় কিংবা অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার করে শরীরে প্রবেশ করানো হতে পারে। এর প্রভাবে ভুক্তভোগীর চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং সে স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।

তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাস্তাঘাটে অপরিচিত কারও দেওয়া কাগজ, কার্ড, কাপড় বা অন্য কোনো বস্তু মুখের কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

নেছারাবাদ থানার তদন্ত কর্মকর্তা সঞ্জয় মজুমদার জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangabani24

কমেন্ট বক্স