ঢাকা | বঙ্গাব্দ

প্রজনন মৌসুমে চায়না জালে দেশীয় মাছ নিধন, হুমকিতে মৎস্যসম্পদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 30, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
অলিউল্লাহ, বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি।

প্রজনন মৌসুমে চায়না জালের অবাধ ব্যবহার বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার খাল-বিল, নদী, ডোবা ও জলাবদ্ধ ফসলি জমির দেশীয় মাছের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরার ফলে বড় মাছের পাশাপাশি রেণু পোনা, ছোট মাছ এবং ডিমওয়ালা মাছও ধরা পড়ে যাচ্ছে। এতে দেশীয় মাছের স্বাভাবিক বংশবৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং আগামী মৌসুমে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, বর্ষাকালে বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রাচুর্য দেখা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চায়না জালের ব্যাপক বিস্তারের কারণে আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে টেংরা, পুঁটি, শিং, মাগুর, টাকি, চিংড়ি, কৈ, খলিশা, চিতল, গজারসহ বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চায়না জাল নিষিদ্ধ থাকার পরও হরহামেশাই এ ধরনের ফাঁদ পেতে মাছ ধরা হচ্ছে। এসব জালের ফাঁক এতটাই ছোট যে মা মাছ, রেণু পোনা এবং বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ সহজেই আটকা পড়ে। ফলে মাছের প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় এক কৃষক বলেন, ‘এই মাছের মৌসুমে আগে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। এখন আগের মতো মাছ সহজে পাওয়া যায় না। যে মাছ পাওয়া যায়, তার দামও অনেক বেড়ে গেছে। চায়না জালের অবাধ ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে আমাদের ধারণা।’

বানারীপাড়া বাজারের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগের মতো টেংরা, পুঁটি, কৈ, মাগুর, শোল, টাকি, চিংড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় মাছের সরবরাহ আর নেই। বাজারে এসব মাছের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দেশীয় মাছের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’

মৎস্যজীবীরা বলেন, চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরলে সাময়িকভাবে বেশি মাছ পাওয়া যায়। তবে এতে বড় মাছের পাশাপাশি ডিমওয়ালা মা মাছ, রেণু পোনা এবং ছোট মাছ একসঙ্গে ধরা পড়ে। ফলে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং পরবর্তী মৌসুমে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশীয় মৎস্যসম্পদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নির্দিষ্ট ফাঁসের চেয়ে ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। এ ধরনের জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও সচেতনতার অভাব এবং সহজলভ্যতার কারণে অনেকেই এখনও চায়না জাল ব্যবহার করছেন। তাদের মতে, এই জালের অবাধ ব্যবহার বন্ধ না হলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় মাছ রক্ষায় চায়না জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। অন্যথায় একসময়ের সমৃদ্ধ দেশীয় মৎস্যসম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকটের মুখে পড়তে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangabani24

কমেন্ট বক্স