ঢাকা | বঙ্গাব্দ

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম ভোগান্তি, ১০০ শয্যার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে ১০ শয্যার সেবা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 20, 2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:
ad728
মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম ভোগান্তি, ১০০ শয্যার ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে ১০ শয্যার সেবা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। সরকারিভাবে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে এখানে মাত্র ১০ শয্যার সমপরিমাণ সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, শয্যা ও অবকাঠামোর অভাবে রোগীরা বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন।

মা ও প্রসূতি সেবা বিভাগে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—রবিবার ও বুধবার—চিকিৎসক উপস্থিত থাকেন এবং এই দুই দিনেই সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। হাসপাতালটির এই বিভাগে চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র একজন, যা রোগীর তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

অন্যদিকে, বিভিন্ন বিভাগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিএমএফ চিকিৎসকের মাধ্যমে রোগী দেখা হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী উপস্থিত হলেও পরীক্ষার জন্য মাত্র ১০ জনের কাছ থেকে ফি গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর বেশি রোগী গুরুতর অবস্থায় থাকলেও তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার টাকা গ্রহণ করা হয় না। ফলে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, ক্যাশ কাউন্টারে নির্ধারিত সীমার বেশি টাকা জমা নিতে অনীহা প্রকাশ করা হয়। এতে রোগীদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে প্রায়ই বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একবার ফিরিয়ে দিলে ওই দিন আর টাকা জমা নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এর ফলে রোগীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশি খরচে পরীক্ষা করাচ্ছেন, যা তাদের আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্থানীয়ভাবে এ নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ও অসন্তোষও লক্ষ্য করা গেছে।

এছাড়া হাসপাতালের ফার্মেসিতে পর্যাপ্ত ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন রোগীরা। ফার্মেসির সামনে এবং বিভিন্ন বিভাগের সামনে ‘এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত ঔষধ সরবরাহ নেই’—এমন নোটিশ টাঙানো দেখা গেছে, যা জনভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

একটি জনবহুল উপজেলার জন্য এমন সীমিত সেবা ব্যবস্থা মোটেও পর্যাপ্ত নয় বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, শয্যা বৃদ্ধি, ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

মোঃ ইকবাল হোসেন মোল্যা
জেলা সংবাদদাতা, গোপালগঞ্জ
Bangobani24.com

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangabani24

কমেন্ট বক্স