“গলায় স্বর্ণের লকেট, সাথে টাকা—সব উধাও; নেছারাবাদে রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য”
নিজস্ব প্রতিনিধি।।
পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র একদিনের মাথায় নির্মল হালদার ওরফে নির্মল ওঝা (৬০) নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের পানাউল্লাহপুর গ্রামের শিক্ষক মোঃ শাহ আলমের পরিত্যক্ত ঘরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত নির্মল ওঝা উপজেলার আটঘর-কুড়িয়ানা ইউনিয়নের পশ্চিম কুড়িয়ানা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিপেন হালদারের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি “নির্মল ওঝা” নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বাধ্য হয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নেছারাবাদ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্মল ওঝা সবসময় গলায় দুটি স্বর্ণের লকেট পরতেন এবং সঙ্গে নগদ অর্থ রাখতেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের সময় তার গলায় কোনো স্বর্ণের লকেট ছিল না, এমনকি সঙ্গে থাকা টাকাও পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এটি নিছক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ধারণা করছেন, তাকে হত্যা করে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি পরিত্যক্ত ঘরের পাশের ঝোপের কাছে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। একইসঙ্গে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, ছিনতাই ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
Bangabani24